Monday, 3 March 2014

What is Positive Attitude ??? (Part-2)




আমাদের কোনটা প্রয়োজন এবং কেন প্রয়োজনঃ
আপনি যদি ভাবেন যে আপনি সফল হবেন, সেটি সঠিক।
আপনি যদি ভাবেন যে আপনি সফল হবেন না, সেটিও সঠিক।
তাই এইটাই ভাবা ভালো না যে, “আপনি অবশ্যই সফল হবেন।“

আমরা সবাই জীবনে সফল ও সুখী হতে চাই। সারা বিশ্বে এমন একজন ব্যাক্তিও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে জীবনে সফল ও সুখী হতে চায় না। 

আমরা আসলে জানিনা যে কিভাবে সফলতা এবং সুখ পাওয়া যায়। তাই আমরা উপরের আলোচনা থেকে অবশ্যই বুঝতে পেরেছি যে সফল এবং সুখী হতে গেলে আমাদের প্রয়োজন Positive Attitude.

Positive Attitude আবার দুই ভাগে বিভক্ত
  1. Good Attitude
  2. Right Attitude
Good Attitude বলতে এমন আচরণ কে বুঝায়, যা ব্যাক্তির নিজের জন্য ভালো। বা এটাকে বলা যায় “খাস” বা “বিশেষ”। এ আচরনের মানুষদের বিশেষ কিছু শ্রেণী পছন্দ করে
 
এবং

Right Attitude বলতে এমন আচরণ কে বুঝায়, যা আপনার জন্যও ভালো এবং সবার জন্যও ভালো মানে সার্বজনীন একে বলা যায় “আম” বা “সাধারন”। এ আচরনের মানুষদের সবাই পছন্দ করে।

যেমন কোন একটা বিষয়কে আপনি খুব ভালো মনে করেন এবং আপনি মনে প্রানে বিশ্বাস করেন। আবার কোন বিষয়কে আপনি খারাপ মনে করেন এবং মনে প্রানে ঘৃণা করেন। কিন্তু ঐ বিষয়টি নিয়ে সাধারন অনেকের সাথে আপনার মতের মিল হতে পারে আবার না ও হতে পারে। কিন্তু আপনি সার্বিক বিচার না করে আপনার মতামত পোষণ করে যাওয়া এবং আপনার মতামতের উপর যুক্তি দাড় করানো, এটাGood হতে পারে কিন্তু Right নয়। Right তখনই হবে যখন আপনি উক্ত বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানবেন এবং কেউ জানতে চাইলে আলোচনা করবেন, সমালোচনা নয়। কারন আপনার ভালো না লাগা প্রাধান্য দিয়ে একটা বিষয়কে যদি কারো কাছে ভুল উপস্থাপন করেন এবং সে প্রত্যক্ষ না হোক পরোক্ষ ভাবেও যদি ক্ষতির সম্মুখীন হয় তবে একটা সময় সে তা বুঝতে পারবে, বা আপনি বুঝতে পারবেন। তখন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না বা আত্ম কষ্টে বা বিবেকের দংশনে কষ্ট পাবেন। যেকোনো ব্যাপার পরিপূর্ণ জেনে বুঝে বিচার করাকে, গ্রহন করাকে অথবা বর্জন করাকে এবং ভালো না বুঝলে আলোচনা করাকেই Right Attitude বলে। তবে স্থান, কাল, পাত্র, ভেদে আপনি Good বাRight Attitude দেখাতে পারেন।।

Keep away from people who try to belittle your ambitions. Small people always do that, but the really great ones make you feel that you too, can become great.”
Mark Twain

সমালোচনা করে বোকারা, আলোচনা করে বুদ্ধিমানরা এবং পর্যালোচনা করে জ্ঞানীরা।

What is Positive Attitude ?????? (part-1)


ইতিবাচক মনোভাব(Positive Attitude) কি?


Attitude কি? 
র্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হচ্ছে মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করে তার জীবন যাত্রার মানকে পরিবর্তন করা। এই মনোভাব কে ই ইংরেজিতেAttitude বলা হয়। একটি মানুষের মনুষ্যত্ব এবং সামাজিকতার ধারক এবং বাহক হচ্ছে এইAttitude । মানুষের সফলতা এবং ব্যর্থতাও নির্ভর করে এর উপর। এই লেখায় আমি Attitude এর কিছু বিষয় আলোচনা করবো যা আমাদের সফলতা এবং জীবন গঠনে কেমন মনোভাব রাখা দরকার তা বুঝতে সহায়তা করবে।
প্রকারভেদঃ
Attitude কে Act বা আচরনের উপর ভিত্তি করে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
  • Pro-Active Attitude
  • Re-Active Attitude

    এবং Thinking বা চিন্তা করার ধরনের উপর ভিত্তি করেও একে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
  • Positive Attitude
  • Negative Attitude

প্রথমত,
Act  বা আচরনের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত করার জন্য এককথায় বলা যায়,
যাকে হাসাইলে হাসে, কাঁদাইলে কাঁদে, রাগাইলে রাগে, খেপাইলে খ্যাপে, উস্কানিতে ঝগড়া করে, অর্থাৎ যিনি পরিস্থিতির সঠিক response করতে পারেন না বা নিজের আচরনের উপর যার কোন নিয়ন্ত্রন নেই তাকেই বলে Re-Active Attitude. সবসময় তিনি আশেপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হন।
এবং যাকে হাসাইলে হাসে না, কাঁদাইলে কাঁদে না, রাগাইলে রাগে না, খেপাইলে খ্যাপে না, উস্কানিতে ঝগড়া করে না, অর্থাৎ যিনি পরিস্থিতির সঠিকresponse করতে পারেন বা নিজের আচরনের উপর পুর্ন নিয়ন্ত্রন রাখেন তাকেই বলে Pro-Active Attitude. সবসময় যিনি আশেপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হন না এবং পরিবেশ কে যিনি প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। এই ধরনের আচরনধারী মানুষদের কে Responsible (response + able) বা দায়িত্বশীল মানুষ ও বলা যায়।
সাধারণত ছোট বাচ্চা বা পশু পাখিরা Re-Active Attitude এর হয়। চিন্তা ভাবনার প্রসারতা কম থাকলে এই আচরণ প্রকাশ পায়। ছোটবেলা জ্যৈষ্ঠ দের কাছে শুনেছি “মানুষের মতো মানুষ হ”  তখন অনেক ভাবেই ভেবে দেখলাম যে আমি তো দু’পা ওয়ালা মানুষ, আমি আবার মানুষ হব কিভাবে? আস্তে আস্তে বুঝলাম, পশুকে পশু হতে হয় না, সে জন্ম সুত্রেই পশু, কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয়।" মানুষ জন্মসুত্রে মানুষের আকৃতি নিয়ে জন্মায়, কিন্তু ধীরে ধীরে জ্ঞ্যান অর্জনের মাধ্যমে তার চিন্তা, আচরণ, বোধ, বুদ্ধির প্রসার ঘটে এবং সে প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত হয় বা Pro-Active আচরনের অধিকারী হয়।
এক কথায় বিশ্বের সকল সফল ব্যাক্তির আচরন ই ছিল Pro-Active.
 
দ্বিতীয়ত,
চিন্তা ভাবনা বা Thinking এর ধরনের উপর ভিত্তি করে মনোভাব বা Attitude যদি ব্যাখ্যা করতে চাই তবে আমি প্রথমেই একটি ছবি দেখাবো........





অনেকেই বলবেন যে গ্লাসটি অর্ধপূর্ণ (আশাবাদী বাPositive Attitude )    এবং

অনেকেই বলবেন যে গ্লাসটি অর্ধ খালি (নিরাশাবাদী বাNegative Attitude)





আমাদের আশেপাশের মানুষ গুলোর কথা এবং কাজ থেকেই বুঝা যায় যে, সে Negative না PositiveAttitude এর অধিকারী।

(চলবে.............)

একজন সফল ও একজন ব্যর্থ ব্যাক্তির তুলনা


 
 একজন সফল ও একজন ব্যর্থ ব্যাক্তির তুলনা

সফলব্যাক্তি    :    সর্বদা সমাধানের পথ দেখায় 
ব্যর্থ ব্যাক্তি      :    সর্বদা সমস্যার কথাই বলে।

সফলব্যাক্তি    :    সর্বদা প্রোগ্রাম করে বেড়ায়।
ব্যর্থ ব্যাক্তি      :    সর্বদা ক্ষমা চেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে।

সফলব্যাক্তি    :    আপনার জন্য কিছু করতে চায়। 
ব্যর্থ ব্যাক্তি      :    আপনার জন্য কিছু করা “ওটা তার কাজ নয়”  এই বলে বেড়ায়।  

সফলব্যাক্তি    :    প্রতিটি সমস্যার সমাধান সে জানে
ব্যর্থ ব্যাক্তি     :    প্রতিটি সমাধানকেও সমস্যা মনে করে।

সফলব্যাক্তি   :    কঠিন কিছুর সম্ভাব্য সমাধান দিতে পারে। 
ব্যর্থ ব্যাক্তি    :    কোন সম্ভাব্য কিছুকেও কঠিন মনে করে।

সফলব্যাক্তি     :    সর্বাত্মক চেষ্টা করে 
ব্যর্থ ব্যাক্তি      :    খুব কম চেষ্টা করে।

সফলব্যাক্তি    :    কোন ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত তৈরি করতে পারে।
ব্যর্থ ব্যাক্তি     :    যে কোন বিষয়কে উপেক্ষা করে।

সফলব্যাক্তি    :    সমস্যার কারন খুঁজে সমাধানের চেষ্টা করে।
ব্যর্থ ব্যাক্তি     :    সমস্যার জন্য সর্বদা কাউকে না কাউকে দায়ী করে।

সফলব্যাক্তি    :    প্রতিটি বালিয়াড়ির পাশে সবুজ দেখতে পায়।
ব্যর্থ ব্যাক্তি     :    সবুজের পাশে বালিয়াড়িই শুধু চোখে পরে।

সফলব্যাক্তি    :    উন্নতি সাধনে ক্রমাগত ব্রত হয়। 
ব্যর্থ ব্যাক্তি     :    ব্যর্থতার জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করে।
আপনি কি সফল ব্যাক্তি হতে চান না ব্যর্থ ব্যাক্তি হতে চান ??

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর টিপস এবং ট্রিক্স


  •  


            লেখক ঃঃ   হিল্টন জন
    সংগ্রাহক এবং অনুবাদক ঃঃ   ইমরান-আল-হাসান

    1.    নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হোল ব্যবসায়িক উপস্থাপনা(Business Presentation)। এটি শিখতে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে সময় দেয়া উচিৎ এবং এভাবে প্রায় ৩ মাস সময় দিয়ে এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো করে শেখা উচিৎ।

    2.    আনন্দময়, ভাবনাহীন, আকর্ষণীয়, অর্থবহ দিনানিপাত করাই সুখের গোপন কথা। এর সবই অল্প সময়ের কঠোর পরিস্রম এর মাধ্যমেনেটওয়ার্ক মার্কেটিং থেকে পাওয়াযায়

    3.    যারা তাদের সময় বিভিন্ন কাজে বা একসাথে একাধিক কাজে ব্যয় করে, তারা তেমন সৃষ্টিশীল, গতিশীল, অর্জনকারী এবং সুখী হয় না তাদের মতো যারা একটা নির্দিষ্ট সময় একটা নির্দিষ্ট কাজে পুরো মনঃসংযোগ করে।
    সূর্যের আলো কখনো কোথাও আগুন ধরায় না। কিন্তু ফোকাস করলে আগুন ধরতে বাধ্য।

    4.    যারা পজিটিভ ভাবনাকারি অদেখা কে দেখে, অবর্ণনীয় কে অনুভব করে এবং অসম্ভব কে জয় করে।

    5.    নিজের চিন্তা ভাবনাকে সমীকরণের বাইরে বিচার বিশ্লেষণ এর সম্পূর্ণ উর্ধে নিয়ে আসাই হচ্ছে মানুশের সাথে যোগাযোগ করার আকর্ষণীয় উপায়। এই ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুনঃ
         ১. আপনি করুন...............
         ২. আপনার প্রয়োজন............
         ৩. আমি আপনার জন্য কি করতে পারি............
    বলতে পারেন  “চলুন আমরা করি।“

    6.    বিবাহিত দম্পতির মধ্যে কে আসল “বস” তা নির্ণয় করার জন্য প্রশ্ন করুন, “আপনারা আমার অনুষ্ঠান থেকে কি ধরনের উৎসাহ পেলেন?” যে প্রথমে উত্তর দেবে সেই “বস”।

    7.    পুরাতন প্রসপেক্ট এর কাছে পুনরায় বিক্রি করার জন্য তার সাথে নিয়মিত প্রেজেন্টেশান সিডি, কোম্পানির খবর, নতুন প্রোডাক্ট, প্রোগ্রাম এর দাওয়াত ইত্যাদি দিয়ে যোগাযোগ রাখতে হবে। কারন ডাইরেক্ট সেলিং এর ক্রেতা কখনো সাবেক হয় না।

    8.    প্লান-সো দেখানোর আগে গেস্ট কে তার কতক্ষন সময় আছে জিজ্ঞেস করুন, এতে আপনি বুঝবেন যে গেস্ট আপনার কথা কতোটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে। আলোচনা দীর্ঘায়িত করবেন না, এতে গেস্ট বুঝবে আপনি নিজের এবং তার সময়ের মূল্যায়ন বোঝেন।

Tuesday, 7 January 2014

টেলিফোনে আলাপ করার কয়েকটি কৌশল

বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে আমরা অতিথি বা নতুন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত যোগাযোগ করতে পারি। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো টেলিফোন। মনের ভাব প্রকাশ করা ও কুশল বিনিময়ের অন্যতম পন্থা টেলিফোনিক আলাপ। আমরা নিম্নোক্ত কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখব যা পরবর্তীতে সফলতা অর্জনে সহায়ক হবে।
 
নিজেকে তৈরী করে নিনঃ  মানসিকভাবে নিজেকে প্রথমে প্রস্তুত করে নিন যা আপনাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ আত্ববিশ্বাসী না হলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে বেশি কি ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন তার একটি সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত করুন এবং তা চর্চা করুন।
 
সঠিকভাবে স্ক্রিপট তৈরী করুনঃ  টেলিফোনিক আলোচনার পূর্বে একটি স্ত্রিপট তৈরী করে হাতে রাখুন। টেলিফোনে আলোচনার সময় অনেক কিছু তাৎক্ষণিক আপনার মনে নাও আসতে পারে। এজন্য স্ক্রিপট উল্লেখিত পয়েন্টগুলো আলোচনায় সহায়ক হবে। সঠিকও নির্ভুল তথ্য দিয়ে স্ত্রিপট তৈরী করুন যাতে গ্রহীতা বিভ্রান্ত না হন।
 
গ্রহীতার মনোযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখুনঃ  উদ্দেশ্যে ফোন করেছেন তা যেন কোন অবস্থাতেই ভেস্তে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এজন্য গ্রতীতা কতটুকু আগ্রহ বা মনোযোগ গিয়ে আপনার কথাগুলো শুনছে তার প্রতি সজাগ থাকুন। সাধারণত গ্রহীতা কোন কাজে ব্যস্ত থাকলে আপনার সুন্দর কথাগুলো ও তার নিকট বিরক্তিকর মনে হবে ফলে ব্যবসার ইতিবাচক দিকগুলো সে ভালোভাবে গ্রহন লাভ করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে নিন এবং পরবর্তীতে আলোচনার প্রস্তাব জানিয়ে সৌজন্যতার সহিত বিদায় নিন। টেলিফোনে কথা বলার সময় গ্রহীতাকে আগ্রহী মনে হবে যখন তখন সামনা সামনি আলোচনার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিন।
 
শুনতে অভ্যস্ত হউনঃ  নিজেকে ভালো শ্রোতা হিসেবে তৈরী করে নিন। আপনার পরিচিতজনের নিকট ফোন করার পর খুব স্বাভাবিক যে তিনি আপনার ব্যাপারে জানতে চাইবেন এবং তার নিজের সাফল্য ও সমস্যা আপনাকে শুনাতে চাইবেন। এতে তিনি দীর্ঘ সময় নিলেও তা আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে শুনতে হবে। আপনার শোনার অনাগ্রহ তিনি যাতে কোন অবস্থায় বুঝতে না পারেন। সাধারণত মানুষ শোনার চেয়ে বলতে অভ্যস্ত, কিন্তু আপনাকে শুনার অভ্যস্ত হতে হবে। দ্বিমুখী আলোচনায় কোন প্রকার নেতিবাচক মনোভাব আপনার সাফল্যের অন্তরায়। এজন্য ইতিবাচক মনোভাব ও আলোচনা একান্ত প্রয়োজন।
 
ধৈর্য্যশীল হউনঃ  সম্ভাবনাময় ক্রেতার নিকট ফোন করার সময় ধৈর্য্যশীল হতে হবে। সাধারণত প্রথমবার ব্যবসার বিষয় সম্পর্কে আপনি আলোচনার সুযোগ নাও পেতে পারেন। পূণরায় সময় চেয়ে নিন এবং সুযোগ বুঝে ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বলুন। মনে রাখবেন যে শ্রোতা যত বেশি সময় নিবে আর কার্যক্রম তত ইতিবাচক হবে।
 
কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুনঃ  বিক্রয়কর্মীদের ন্যায় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন এক কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখুন। গ্রহীতা (অতিথি) কে সুযোগ প্রদান করবেন এমন ধারনার চেয়ে তাকে সম্ভাবনাময় ব্যবসার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রথম আচরন করুন আপনার কণ্ঠস্বর ও কথাবার্তার- মাধ্যমে সম্ভাবনাময় গ্রাহক হয়তো বুঝে নিতে পারেন আপনি কোন ব্যবসার কথা বলছেন, এক্ষেত্রে আপনি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করুন এবং আপনার কার্যক্রম দেখার আমন্ত্রন করুন।
 
পূনঃপূনঃ ফোন করবেন নাঃ  আপনি প্রথমবার ফোন করে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ গ্রাহক সম্পূর্ণ নেতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের পর আপনি পূনরায় ফোন করবেন না। আপনি দ্বিতীয় কোন মাধ্যম ব্যবহার করে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং এমন পরিবেশ তৈরী করুন যাতে গ্রাহক নিজেই আপনাকে ফোন করে। এবার গ্রাহকের আগ্রহ যাচাই করে আলোচনায় বসুন। সম্ভাবনাময় গ্রাহকের সাথে আলোচনার পূর্বে প্রয়োজনে আপনার দলনেতার সহিত আলোচনা করে নিন।
 
নেতিবাচক কথা বলবেন নাঃ  নেতিবাচক কথোপকখন আপনার সাফল্যের অন্তরায়। যখনি গ্রাহক নেতিবাচক মনোভাব পোষন করবেন তখনি যুক্তি দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন। সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কে না জেনে শুধু লোকমুখে শুনে অনেকে মন্তব্য করে। আপনি তাকে সচক্ষে দেখার ও বুঝার আমন্ত্রণ করুন তাতে গ্রাহক অধিকতর পজেটিভ হবেনা।

সফল দল (টীম) গঠন করার কৌশল

যে কোন সংগঠনের বা প্রতিষ্ঠানে সফলতার মূলভিত্তি শক্তিশালী দল বা টীম গঠন। সেটা হোক ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা, হোক স্থাপত্য নির্মান কিংবা উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি সব কিছুর মূলে রয়েছে শক্তিশালী দলের ভূমিকা। দলীয় লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয় যখন ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জিত হয় যা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় শতভাগ সত্য। প্রতিটি মানুষেরই দলগঠন করার কিছু কৌশল জানা থাকে যা জন্মলাভের পর পরিবেশ হতে শিখতে থাকে। আপনি যখনই দল গঠন করতে যাবেন নিন্মোক্ত কিছু বিষয় নির্ধারন করে নিনঃ

 

১. দল বা টীমের লক্ষ্য কি?    ২. দল বা টীমের উদ্দেশ্য কি?  ৩. দলের নীতিমালা কি হবে?   ৪. দলের কার্যক্রম কি হবে?   

 

আপনার অভিজ্ঞতা, শিক্ষন, আপ-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত আলোচনা এবং এক্সপার্টদের পরামর্শ গ্রহন করবেন উপরোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারনের ক্ষেত্রে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় এককভাবে কেহ সফল হতে পারে না। অন্যদের সহযোগিতা ব্যতীত উদাহরণ স্বরূপ ধরুন, আপনি আপনার ডাউনলাইনারদের নিয়ে যে দলটি গঠন করেছেন এর নাম দিয়েছেন “বিবর্তন চ্যালেঞ্জ গ্রুপ।” আপনার ঠিক ইমিডিয়েট ডাউনলাইনার (যাকে সরাসরি হাত বলে থাকি) আর একটি দল গঠন করেছে যার নাম “এক্সপার্ট মিশন গ্রুপ” ধরে নিই আপনার ডাউনলাইনের এরূপ দশটি গ্রুপ বা দল কাজ করছে। ডাউনলাইনের প্রত্যেকটি দলের সফলতা আপনার জন্য সফলতা বয়ে আনবে। লক্ষ্য করুন প্রতিটি দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সামঞ্জস্য আছে। দলনেতা হিসেবে আপনার কাজ হবে নীতিমালা ও কার্যক্রম নির্ধারনে সহযোগিতা প্রদান। আপনার ডাউনলাইনের প্রতিটি দল বা গ্রুপই আপনার গ্রুপের সাব-গ্রুপ।

 

এবার দেখা যাক যাদের নিয়ে দল বা গ্রুপ তৈরী করবেন তাদের কিভাবে বাছাই করবেন। আপনার ডাউনলাইনের প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরই আপনার গ্রুপের সদস্য, কিন্তু এদের মধ্যে রয়েছে পরিশ্রমী আবার কেউবা অলস। কারো আগ্রহ বেশি কারও কম। এদের মধ্য হতে বাছাই করতে হবে গ্রুপের দায়িত্বশীল লোকদের। বাছাইয়ের জন্য নিন্মোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ

 

প্রথম ধাপঃ ডাউনলাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করুন। এবার পরীক্ষা করে দেখুন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মতো তার যোগ্যতা আছে কিনা।

 

দ্বিতীয় ধাপঃ ব্যক্তির আগ্রহ যাচাই করুন। শখের বসে যারা কাজ করছে তারা যে কোন দলের জন্য উপযুক্ত নয়। যারা এ ব্যবসা সম্পর্কে খুবই আশাবাদী ও ফলাফল প্রত্যাশী তাদের চিহ্নিত করুন। এজন্য দক্ষ দলনেতা হিসেবে আপনাকে আগ্রহী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আবশ্যক।

 

তৃতীয় ধাপঃ এধাপে আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করুন। কাজের ধরন, নিরলস শ্রম ও ব্যক্তিক উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে ডিস্ট্রিবিউটররা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া করে। আপনি যাদের নিয়ে দল গঠন করবেন তাদের নিকট হতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া একান্ত আবশ্যক।

 

চতুর্থ ধাপঃ এধাপটিতে যাচাই করুন আগ্রহী ব্যক্তি কতটুকু দায়িত্বশীল। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের দায়িত্বপ্রদান অনুচিত। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের খুঁজে নেয়ার জন্য প্রথমে তাদের ছোট কাজ দিন এবং সময় বেঁধে দিন। যারা অধিক আগ্রহী কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে তারা যে কোন দলের জন্য ক্ষতিকর আবার যারা আগ্রহী ও দায়িত্ব পালন করে তারা দলের নেতৃত্বে যোগ্য।

 

পঞ্চম ধাপঃ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর ব্যক্তির আগমন ঘটবে আপনার দলে। কেউবা চাকুরীজিবী, কেউবা ব্যবসায়ী, কেউবা ছাত্র, কেউবা গৃহবধু, কেউবা চাকুরী সন্ধানী, কেউবা পেশাজীবি ইত্যাদি। আপনাকে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যেমনঃ- চাকুরীজিবীরা পূর্ণ সময় প্রদানে অক্ষম, আবার গৃহবধুরা নির্দিষ্ট সময় প্রদান করতে পারবেন না ইত্যাদি।

 

উপরোক্ত সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে দল গঠন করতে হবে। একই দলে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর লোকজনের সমাগম ঘটাতে হবে। এতে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটে। এর ফলাফলও অনেক শ্রেয়।

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল

যে কোন ব্যবসার মূল লক্ষ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা অর্থাৎ বিক্রয় বৃদ্ধি করা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ এম.এল.এম. খুচরা বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল। খুচরা বিক্রয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত ক্রেতাগণ। একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পণ্য ক্রয় করার পাশাপাশি নতুন ক্রেতাদের স্পন্সর করাতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদী কমিশন অর্জন সহজতর হয়। নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার কৌশল এমন হতে পারে-

 

জীবন যাত্রা বদলে ফেলুনঃ
 নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ের আয় দ্বারা আপনার জীবনযাত্রা বদলে ফেলুন। আপনার পরিবর্তন অন্যদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করবে। আপনার পরিবর্তনে মূল কারণ আয় বৃদ্ধি। আপনার বাড়তি আয়ের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসা সম্পর্কে জানার পরই ক্রেতারদের আকৃষ্ট করা সহজতর হবে।

 

সম্পর্ক আরো গভীর করে তুলুনঃ
  আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে গভীরতা করে ফেলুন। তাদের সুখ-দুঃখে, সমস্যাগ্রস্থ অবস্থায় পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করুন। তাদের কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বেশি হলে আপনার দেখানো পথ-ই তারা অনুসরণ করবে।

 

টেলিফোনে কুশল বিনিময় করুনঃ
 প্রত্যেকেই তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছ হতে ফোন প্রত্যাশা করে। সম্ভাব্য ক্রেতার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তার সাথে কুশল বিনিময় করুন। তার পরিবার পরিজনের খোঁজ খবর নিন এবং আপনার নতুন ব্যবসা দেখার নিমন্ত্রন করুন। আপনার ইতিবাচক কথোপকথন সম্ভাব্য ক্রেতার মাঝে আগ্রহ তৈরী করবে।

 

ক্রেতার কর্মদক্ষতার তারিফ করুনঃ
  প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মদক্ষতা সাফল্যের তারিফ শুনতে পছন্দ করে। নেতিবাচক মানুষগুলো এর পেছনে কোন দূরভিসন্ধি খুঁজে বেড়ায়। যেটুকু তারিফ পাওয়ার যোগ্য সেটুকু করুন। পরিশেষে বলুন, “আপনার দ্বারা আরো চমৎকার কিছু সম্ভব, অবশ্য এজন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট” এ বলে আগ্রহ যাচাই করুন।

 

আপনার সফলতার কথা বলুনঃ
 পরিচিতজনের সাফল্যের কথা সবাই শুনতে পছন্দ করে। তবে এর পূর্বে প্রমান করতে হবে আপনি সফল। আপনি যত সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে আপনার সফলতার কথা সম্পন্ন করতে পারবেন আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা ততই আকৃষ্ট হবেন।

 

সত্য প্রকাশে অনড় থাকুনঃ
 আপনি কি করছেন তা অবশ্যই আপনি জানেন। যদি না জেনে করেন তবে আগে জেনে নিন। আপনি যা করছেন তা সত্য, যদি তা অসত্য হয় তবে বিরত থাকুন। সত্য প্রকাশে অনড় থাকুন। আপনার চারপাশের মানুষ আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ আপনার কর্মের প্রতি আগ্রহী হবে। কাল্পনিক কোন বিষয়কে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন না, সত্য আপনাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্রেতাই সত্যের পথ খোঁজেন।

 

কৃত্রিমতা বর্জন করুন ঃ
  কৃত্রিমতা আপনার নিজস্ব সত্তাকে নষ্ট করবে। স্মার্ট হতে গিয়ে এমন আচরণ করবেন না যা ক্রেতার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। মনে রাখবেন অধিকাংশ ক্রেতাই বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান ক্রেতা বা প্রসপেক্টদের নিকট বুদ্ধিমত্তার সহিত উপস্থাপন।